মাহাবুবুর রহমান শিপন
নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে দখল ও নির্মাণকাজ চললেও দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্রিজের জায়গা দখল করে ইটের গাঁথুনি দিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন নাগরিক চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। পরে কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতাও দেখতে পান।
চাটখিল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পৌর এলাকার যানজট নিরসন ও যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে পৌরসভার অর্থায়নে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগকারী বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
পৌর কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই মাস আগে ব্রিজটির উত্তর পাশে ১২ ইঞ্চি পরিমাণ ইটের গাঁথুনি নির্মাণ করে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ব্রিজের দক্ষিণ পাশে উপজেলা পরিষদের কিছু খালি জায়গা রয়েছে। উপজেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে পৌরসভার কার্যালয় নির্মাণের চিন্তাভাবনাও চলছে।
এ অবস্থায় সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল দিনে-রাতে শ্রমিক দিয়ে পৌরসভার নির্মাণ করা ইটের গাঁথুনি ভেঙে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্রিজের জায়গা দখলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যান চলাচল ও পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে চাটখিল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বাইপাস সড়ক নির্মাণ না হলেও ব্রিজটি আমাদের একান্ত প্রয়োজন। ব্রিজের দক্ষিণ পাশে পৌরসভার পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে।”
দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে পৌর প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।”
পরে এ বিষয়ে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জায়গাটি ইজারা বা ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “জেলা পরিষদ সাধারণত খালপাড়ের জায়গা লিজ দিয়ে থাকে। কিন্তু পৌরসভার ব্রিজ লিজ দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখল করে দোকান নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দখলদারদের উচ্ছেদ এবং ব্রিজ ও এর আশপাশের সরকারি/পৌর সম্পত্তি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।