নিজস্ব প্রতিনিধি
মাহাবুবুর রহমান শিপন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় হোস্টেলে থাকা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
নিহত মেহেদী হাসান রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজারের ফ্যামিলি ফ্যাশনের মালিক জিয়া উদ্দিনের ছেলে। তিনি ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতেন।
বুধবার দুপুরে রামগঞ্জ থানা গেটের সামনে মেহেদীর লাশবাহী গাড়ি রেখে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ঘণ্টাব্যাপী চলা কর্মসূচিতে নিহতের বাবা-মা, স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মেহেদী হাসানের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের এসএসসি ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ১৬ জুন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় মেহেদী। পরদিন হোস্টেল থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমি কর্তৃপক্ষ আগামী সাত দিনের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্তের স্বার্থে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোস্টেলের একটি কক্ষ থেকে মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কক্ষ, আসবাবপত্র ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এখনো এ ঘটনায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মেহেদী হাসানকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশাসন বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।