নিজস্ব প্রতিনিধি
মাহাবুবুর রহমান শিপন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৩ নম্বর পরকোট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনপুর সুদাইয়া আমিন আহমেদ ভূঁইয়া বাড়ির প্রবাসী রাসেলের উপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, যুবক ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে এলাকায় একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রবাসী রাসেল মসজিদ থেকে নামাজ আদায় করে বাড়িতে এসে নিজের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় প্রতিপক্ষের রফিক, ইমন ও আরিফসহ কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা রাসেলের মাথায় গুরুতর আঘাত করে এবং লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর চাটখিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তাদের দাবি, অভিযুক্তরা এখনও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “একজন নিরীহ প্রবাসীর উপর প্রকাশ্যে হামলার পরও যদি অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা কমে যাবে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করছি।”
রাসেলের পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। হামলাকারীরা এখনও আমাদের হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা না করলে আমাদের পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করা সম্ভব হবে না।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা বলেন, নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাটখিল থানার এসআই মামুনুর রশীদ বলেন, “মামলা হওয়ার পর থেকে আমরা একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে এখন পর্যন্ত আসামিদের পাওয়া যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”