মোরশেদ আলম, বিশেষ প্রতিনিধি
দুর্গাপূজা পূর্বেই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় দুইটি মন্দির নির্মাণ ও তিনটি মন্দির সংস্কার করে দিয়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ সফিকুর রহমান কিরন। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটিগুলো।
অনুদানের আওতায় থাকা মন্দিরগুলো হলো উত্তর কেদারপুর রাম ঠাকুর সেবা মন্দির, কান্দাপাড়া পল্লীমঙ্গল সার্বজনীন সনাতন ধর্ম সংঘ মন্দির, শ্রী শ্রী কলারগাঁও সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বিঝারী শ্রী শ্রী সার্বজনীন রাধাকৃষ্ণ সেবা সংঘ মন্দির এবং ভেদরগঞ্জের সখিপুরের উত্তর তারাবুনিয় নমকান্দি মন্দির। দুর্গাপূজার আগেই এসব মন্দিরের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্দির কমিটিগুলোর সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সফিকুর রহমান কিরন নড়িয়া উপজেলার উল্লেখিত মন্দিরগুলোর নির্মাণ ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় তার দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৮০ লাখ টাকা অনুদান দেন। এমপির দেয়া কথা অনুযায়ী মন্দিরগুলোর উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মানবিক এই সংসদ সদস্য কিরন তাঁর নির্বাচনী এলাকার নড়িয়া উপজেলার ৩৩টি এবং সখিপুরের দুটি পূজাম-প পরিদর্শন করেছেন। গত সোমবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত এসব ম-প পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিটি ম-পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ২০ হাজার টাকা করে মোট সাত লাখ টাকা শুভেচ্ছা অনুদান প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী হায়দার খান, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝি, নড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ইমরান পঞ্চায়েতসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ সফিকুর রহমান কিরন বলেন, আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করি। আমার দল বিএনপি এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও কাজে বিশ্বাস করেন। সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘেœ তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যক্তিগত অর্থায়নে মন্দিরের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছি। আমি জনগণের পাহারাদার হিসেবে কাজ করছি, এর বেশি কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তাঁরা নির্বিঘেœ নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন সেই দিক লক্ষ রেখেই আমি আমার এলাকা মানুষের পাহাড়াদারের দায়িত্ব পালন করছি।