লক্ষীপুর প্রতিনিধি
ভারত মহাসাগরে সোমালিয়া জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের আইয়ুব খান রবিন। তিনি ওই জাহাজের ইঞ্জিন ক্যাডেট পদে শিক্ষানবিশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী থেকে পড়াশুনা শেষ করে প্রায় ১০ মাস আগে তিনি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম কোম্পানির এমভি আবদুল্লাহ নামক জাহাজে যোগদান করেন। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে দুবাইয়ে যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশী মালিকানাধীন এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি সোমালিয়ান জলদস্যুরা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এ সময় জাহাজটিতে ২৩জন ক্রু ছিলেন। জলদস্যুরা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ক্রু মেম্বারদের জিম্মি করে জাহাজটি আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
অপহৃত জাহাজের ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান রবিন রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা রাখালিয়া গ্রামের প্রয়াত আজহার মিয়ার ছেলে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। এদিকে এক মাস আগে স্বামীকে হারিয়ে শোক কাটতে না কাটতে ছেলের অপহরণের খবর শুনে বাকরুদ্ধ।
রবিনের স্বজনরা জানান, রবিন একজন মেধাবী ছেলে। সে চট্টগ্রামে মেরিন একাডেমী থেকে পাশ করে প্রায় ১০ মাস আগে চট্টগ্রামের মালিকানাধীন একটি জাহাজে ইঞ্জিন ক্যাডেট পদে শিক্ষানবীশ হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন। গেলো বুধবার জলদস্যুদের হাতে জিম্মির খবরে হতবাক স্বজনরা, আর এমন মেধাবী ছেলেকে ফিরিয়ে আনার দাবি করেন স্থানীয়রা।
আইয়ুবের বড় ভাইয়ের স্ত্রী নাছরিন বেগম জানান, গতকাল ১২ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকেলে আইয়ুবক খান রবিনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটার্সের মাধ্যমে তারা অপহরণের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকে তার সাথে আর কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জিম্মিদশা থেকে রবিনকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি সহযোগিতা চান পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে আইয়ুবের মা হোমায়রা বেগম মাস খানেক আগে নিজ স্বামীকে হারিয়ে এমনিতেই বাকরুদ্ধ। গতকাল সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ছেলের জিম্মিদশার খবরে তিনি এখন মানসিকভাবে একেবারেই বিপর্যস্ত। কারো সাথেই কথা বলেন না তিনি। তবে ছেলেক ফিরে পেতে সরকারের প্রতি আকুতি জানান মা হোমায়রা বেগম।
ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান রবিনকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয়দের।