নিজস্ব প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমিসেবা আধুনিকীকরণ, গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে ডামুড্যা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে জনাব জাহিদুর রহমান দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ জনগণের সঠিক ও স্বচ্ছ এবং স্মার্ট ভূমিসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতে এসব কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানানো হয় যে, ভূমিসেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও জনবান্ধব করতে নিম্নলিখিত প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়ন করা হয়েছে:
১. শুনানিতে স্বচ্ছতা ও অনলাইন সুবিধা:
সরকারের নির্দেশনার আলোকে সরাসরি সেবাগ্রহীতার উপস্থিতিতে নামজারি ও মিসকেসের শুনানি গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রবাসী এবং কোনো যৌক্তিক কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে অপারগ ব্যক্তিদের সুবিধার্থে হোয়াটসঅ্যাপ বা জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন শুনানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবেদনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা ভূমি অটোমেশন প্রকল্পের ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ স্ক্রিনে’ দেখিয়ে সরাসরি সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২. ব্যতিক্রমী সেবা ও দীর্ঘদিনের জট নিরসন:
‘সর্বশেষ সেবাগ্রহীতার উপস্থিতি পর্যন্ত অফিসের দরজা খোলা রাখা’—এই জনবান্ধব নীতিতে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বা অনিষ্পন্ন আবেদনসমূহ দ্রুত পর্যালোচনার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ গ্রহণ করা হয়েছে।
৩. জালিয়াতি প্রতিরোধ ও রেকর্ড সময়ে আবেদন নিষ্পত্তি:
জাল ও ভুয়া দলিলাদির মাধ্যমে বেআইনিভাবে অন্যের জমি নামজারি করা প্রতিরোধে শুনানিকালে মূল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কার্যকর তদারকির ফলে বর্তমানে নামজারি আবেদন নিষ্পত্তির গড় সময় নেমে এসেছে মাত্র ১৬ দিনে, যা সরকার নির্ধারিত ২৮ দিনের চেয়ে অনেক কম। এই সময়কে আরও কমিয়ে আনতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
৪. তথ্য প্রাপ্তি ও ভোক্তা-অধিকার সুরক্ষায় গণবিজ্ঞপ্তি:
নির্ধারিত সেবামূল্য (ফি) সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক ও অবহিত করতে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দৃশ্যমান ব্যানার টানানো এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ভূমিসেবা সংক্রান্ত অনলাইন আবেদন তৈরিতে সহায়তাকারী ব্যক্তিবর্গ ও ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে নিজ নিজ ফি-তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
৫. সিসি ক্যামেরা ও আধুনিক কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম:
অফিসের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও অনিয়ম প্রতিরোধে উপজেলা ভূমি অফিসসহ আওতাধীন সকল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সিসি ক্যামেরা ও আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের সুশৃঙ্খলভাবে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে সম্পূর্ণ অনলাইন কিউ (Queue) ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
৬. প্রবাসীদের জন্য বিশেষ হেল্পডেস্ক:
রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী নাগরিকদের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যালয়ে একটি ‘প্রবাসী হেল্পডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। সেখানে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী সার্বক্ষণিক অবস্থান করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করছেন।
৭. অবকাঠামোগত সংস্কার ও রেকর্ডরুম সুরক্ষা:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কার্যালয়ের প্রধান ফটক রঙ করা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং সম্মুখের গোলঘরটি সুন্দর টাইলস দিয়ে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। বৃষ্টির পানি ও আবহাওয়া থেকে রেকর্ডরুমের শতবর্ষী মূল্যবান নথি সুরক্ষিত রাখতে দ্বিতীয় তলার রেকর্ডরুমে থাই গ্লাসের জানালা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দারুল আমান ও পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সার্বিক মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
৮. অনলাইন ডাটাবেজ ও মিসকেস অটোমেশন:
ডামুড্যা উপজেলার সকল মিসকেস, ভিপি (অর্পিত) লিজ কেস এবং চান্দিনা ভিটি লিজ কেসের নথি অনলাইন ডাটাবেইজে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিগত বা অনলাইন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে অটোমেশন প্রকল্পের টেকনিক্যাল টিমের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। এছাড়া মিসকেস ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেটেড করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক ওয়েবভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আহ্বান:
ডামুড্যা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব জাহিদুর রহমান জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক, স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে তিনি বদ্ধপরিকর। সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্যে নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং দালালদের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।