নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চুরি করতে নয়, গৃহবধূকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই ঘরের সিঁধ কাটা হয়। পরে ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে আসামিরা চুরি করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ তথ্য জানান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বুধবার নিজ কার্যালয়ে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলন করেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত সোমবার দিবাগত রাতে মা (৩০) ও মেয়েকে (১২) ধর্ষণের জন্য বাড়িতে ঢোকার আগে চুরির নাটক সাজান গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের ওরফে মুন্সি মেম্বার (৫০)। এর আগে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে সফল না হয়ে সহযোগী হারুনের মাধ্যমে চুরির নাটক সাজান। সে অনুযায়ী তৃতীয় আরেকজনকে দিয়ে সিঁধ কেটে বসতঘরে ঢুকে দুজন মাকে এবং একজন মেয়েকে ধর্ষণ করেন।
জানা যায়, সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় মেহেরাজ নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের বিশেষ দল। মঙ্গলবার রাতে তাকে সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে মামলার প্রধান আসামি চরকাজী মোখলেছ গ্রামের আবুল খায়ের ওরফে মুন্সি মেম্বারকে জেলা শহর মাইজদি থেকে গ্রেফতার করা হয়। দুই আসামিকে মুখোমুখি করলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন তারা।
মেহেরাজের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আবুল খায়েরের ঘনিষ্ঠ একই এলাকার হারুন ওই নারীর ঘরে টাকাপয়সা আছে মর্মে লোভ দেখিয়ে মেহেরাজকে চুরি করতে যাওয়ার জন্য রাজি করান। সে অনুযায়ী তিনি সোমবার দিবাগত রাতে বসতঘরে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি ঘরের দরজা খুলে দিতেই দেখেন, হারুনের পেছনে আবুল খায়ের ওরফে মুন্সি। তখন ঘরের ভেতর এক কক্ষে মা ও আরেক কক্ষে মেয়ে ঘুমিয়ে ছিল। পরে মা ও মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার বলেন, সিঁধ কাটায় ব্যবহৃত একটি কোদাল ও দা এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত প্রধান আসামীর মাংকি টুপি ও প্যান্ট জব্দ করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করতে এবং রিমান্ডের আবেদন করে বুধবার আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মামলার আরেক আসামি হারুন প্রকাশ গরু হারুন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে ।
সুবর্ণচরে ধর্ষণের ওই ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদি হয়ে তিনজনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা করেন।