নিজস্ব প্রতিনিধি
শিশু শিক্ষার্থীদের পরিবেশপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে শরীয়তপুরে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। জেলা সদরের সোনামনি কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাই স্কুলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো: রুহুল আমীন মুন্সীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোসা. জাহানারা খানম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হামিদুল হক ও বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা সাইদ মাহমুদসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা তৈরি করতে হবে। একটি শিশু যদি একটি গাছের যতœ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই শিশুই পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো: রুহুল আমীন মুন্সী বলেন, শিশুদের হাতে ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্য শুধু চারা বিতরণ নয়, তাদের মধ্যে গাছের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি করা। সে কারণে শিশুদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ক বিতর্ক ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। যাতে করে শিক্ষার্থীরা গাছ লাগানো, রোপণ ও পরিচর্যা করে আগামীর সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ভুমিকা রাখতে পারে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের বিপদাপন্নতাকে মোকাবেলা করে পরিবেশকে মানব সভ্যতার সহায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিশুদের হাত ধরেই করতে হবে। এদেরকে পরিবেশবান্ধব মানসিকতায় গড়ে তুলতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ হবে আরও সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশসম্মত। অভিভাবকদেরকেও নিজের সন্তানকে পরিবেশ সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা ও মমতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোসা. জাহানারা খানম বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। বিদ্যালয় থেকেই যদি শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানো ও গাছের পরিচর্যায় উদ্বুদ্ধ করা যায়, তাহলে তারা পরিবার ও সমাজেও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির বিজয়ীসহ মোট ১০০ শিক্ষার্থীর মাঝে ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে সহযোগিতা ও সন্তানদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়ায় শ্রেষ্ঠ আট জন অভিভাবকদের পুরষ্কৃত করা হয়।