নিজস্ব প্রতিনিধি
গতকাল ১৬ অক্টোবর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় 'নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ।প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে আমি তীব্র নিন্দা, ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।তথ্য-উপাত্তের যথাযথ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ না করে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী বলে আমি মনে করি। বিশেষ করে দৈনিক যুগান্তরের মতো একটি স্বনামধন্য গণমাধ্যমে এমন একপেশে সংবাদ পরিবেশন একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ, বাক্যগঠন ও উপস্থাপনার ধরন আমার ব্যক্তিগত সম্মান এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিচিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।প্রতিবেদনে আমার ভাইদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়েছে। আমি মনে করি, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের পরিবর্তে একপাক্ষিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করে জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে আমি হাসান নামের একজন এস্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা চেয়েছি। অভিযোগটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এস্কেভেটর সংক্রান্ত কোনো চাঁদাবাজির সাথে আমি জড়িত নই।আর সেই হাসানের কথা বলা হচ্ছে,সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী।সে (হাসান) ছিন্নমুলের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের সহযোগী ও র্যাব সদস্য হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমি হিলভিউ এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে অফিস গড়ে তুলেছে।এটা একটা প্রোপাগান্ডা।আমি বিল্ডিংয়ের মালিক থেকে মাসিক চুক্তিতে অফিসটি ভাড়া নিয়েছি।এই সংক্রান্ত সব কাগজপত্র আমার কাছে আছে।
আমি বাড়ি নির্মাণে বালি, ইট নিতে বাধ্য করি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।এই কথাটিও ভিত্তিহীন।আমি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাবাণিজ্য করি। মূলত আমি কনস্ট্রাকশন আইটেম সাপ্লাই দিয়ে থাকি। বিল্ডিং কর্তৃপক্ষের কাছে সাপ্লাই কোটেশন দেওয়ার পর কথাবার্তা ঠিক হলে দুই পক্ষের চুক্তির পরেই সাপ্লাই দেওয়া হয়। আমি আজ পর্যন্ত যে সাপ্লাই দিয়েছি সকল কিছুর চালান আমার সংগ্রহে আছে।অতিরিক্ত কোনো মূল্য নেওয়া হয়নি।আর জোরজবরদস্তি করে তো ব্যবসা হয় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত ৫ অক্টোবর আমি বায়েজিদে এক ট্রাক গার্মেন্টস পণ্য আটক করেছি।মূলত পুলিশ সেখানে নিজেই বন্ড সুবিধা ফাঁকি দেওয়া মাল আটক করেছে।এই ঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে আমাকে গ্রেফতার করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমার বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে আমি গুলিবিদ্ধ হই ও এক পা হারায়। এই অভিযোগ জলজ্যান্ত আমার উপর আরেকটা জুলুম ছাড়া কিছু নই।যেখানে প্রকাশ্যে সবার সামনে থেকে আমাকে তুলে নিয়ে পায়ে গুলি করে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।এ-সংক্রান্ত অনেক নিউজ সেসময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিলো।মূলত বিএনপির একজন সংগঠক হওয়ার কারণে আওয়ামী পুলিশ সেসময় আমার উপর এমন বর্বরতা চালিয়েছিলো। আমার দলের হাইকমান্ড এই বিষয়ে অবগত আছেন।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান সেসময় আমার চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন।
আর এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আমি দল থেকে বহিষ্কৃত।মূলত সম্পূর্ণ ভুল বুঝাবুঝির কারণে দল থেকে আমার আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।পরবর্তীতে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।বর্তমানে আমি রাজনীতির পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে শতভাগ সক্রিয় আছি।মূলত আমার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। সে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দৈনিক যুগান্তরের মতো একটি দায়িত্বশীল পত্রিকায় ভুল তথ্য দিয়ে মিসলিড করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি।
সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ, জাতির বিবেক।আমি বা আমার পরিবারের কেউ অপরাধ করলে সেটা গণমাধ্যমে লিখলে আমার কোন আপত্তি থাকতো না।কিন্ত আমার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের মিস ইনফরমেশনে এমন একতরফা সংবাদ প্রকাশের কারণে আমার ও আমার পরিবারের সামাজিক - রাজনৈতিক মর্যাদা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি এ কারণে এই প্রতিবাদলিপি ছাপানোর বিনীত অনুরোধ করছি।
বিনীত
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
সাবেক সহ সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল