মাহাবুবুর রহমান শিপন, স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার হাটগাঁও এলাকায় মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা, আদালতের আদেশ এবং প্রশাসনের আগের পদক্ষেপ উপেক্ষা করে কথিত ভুয়া কবিরাজি ও অপচিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিক ওরফে ‘মানিক খোনা’র বিরুদ্ধে। প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাবিদ্যার কোনো স্বীকৃত সনদ বা নিবন্ধন না থাকলেও বিভিন্ন জটিল রোগ ভালো করার আশ্বাস দিয়ে পানিপড়া, তাবিজ-কবজসহ নানা পদ্ধতিতে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটগাঁও গ্রামের মৃত মোজাফফর আহমেদের ছেলে মানিক খোনা দীর্ঘদিন ধরে কথিত কবিরাজি চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তার চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ মানুষ তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মানিক খোনার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) অথবা স্বীকৃত কোনো আয়ুর্বেদিক কিংবা ইউনানী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেই। ফলে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রকৃত রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
আদালতের নির্দেশ ও আগের অভিযানের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানিক খোনার কথিত ভুয়া কবিরাজি কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে ২০১৭ সালে হাটগাঁও গ্রামের মৌলভী আব্দুল খালেকের ছেলে গোলাম ফারুক হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটটির নম্বর ২৩৫৪/২০১৭।
রিটের পর তৎকালীন সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ফয়সাল সরেজমিনে গিয়ে কথিত চিকিৎসাকেন্দ্রটি বন্ধের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর আদালতে এ বিষয়ে মতামত দাখিল করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনের পদক্ষেপের পরও কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মানিক খোনাকে আটক করে। এ সময় তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তার সহযোগীদের সঙ্গে প্রশাসনের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিম ও মিলন নামে দুজনকে আটক করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই ঘটনায় আদালত মিলনকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং কথিত ভুয়া চিকিৎসাকেন্দ্রটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশরাত জাহানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না—এ মর্মে মানিক খোনা মুচলেকা দেন বলেও জানা গেছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের এসব প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপের পরও বর্তমানে আবারও কথিত কবিরাজি চিকিৎসার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন মানিক খোনা। চিকিৎসার নামে পানিপড়া, তাবিজ-কবজসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে তার চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিক খোনার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার বলেন, “তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো অন্ত নেই। এর আগেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবুও সে কীভাবে আইন অমান্য করে ভুয়া কবিরাজি চালিয়ে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”