মাহাবুবুর রহমান শিপন
নোয়াখালীর চাটখিলে ঢাকার এক ব্যবসায়ীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার ভীমপুর এলাকার হালিমা দিঘীরপাড়স্থ পি.জি. স্কুল সংলগ্ন ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সৈয়দ হাসান মাহমুদ চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ব্যবসায়ী ও নোয়াখালীর হঃসোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ধলীয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ হাসান মাহমুদের সঙ্গে তার মায়ের ওয়ারিশি সম্পত্তি ও তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি নিয়ে চাটখিল উপজেলার ৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাকড়াপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের ছেলে তার সৎ মামা মো. সোলেমান হোসেনসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে সোলেমান হোসেনের লোকজন বিভিন্ন সময় গাড়িচাপা দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে আসছিলেন।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার হাজিরায় অংশ নিতে ঢাকা থেকে নোয়াখালী আসার পথে ভীমপুর পি.জি. স্কুল সংলগ্ন ব্রিজের ওপর পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তার প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। এ সময় সোলেমান হোসেনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের একজন ওয়ান শুটার দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এরপর অপর এক ব্যক্তি পেছন থেকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে সৈয়দ হাসান মাহমুদের ওপর উপর্যুপরি হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সৈয়দ হাসান মাহমুদকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সৈয়দ হাসান মাহমুদ বাদী হয়ে মো. সোলেমান হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে রবিবার সকালে চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।