মাহাবুবুর রহমান শিপন, স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে উৎপাদিত বোরো ধান বিক্রি করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকেরা। একদিকে ধান বিক্রি করতে না পারায় অর্থসংকটে রয়েছেন, অন্যদিকে ঘরে মজুত রাখা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির জন্য কৃষক কার্ড ও তালিকায় নাম থাকার পরও অনেক কৃষক ধান দিতে পারেনি। দিনের পর দিন গুদামে ঘুরেও ধান বিক্রি করতে পারেনি তারা। তাদের অভিযোগ, খাদ্য কর্মকর্তারা প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করে বিভিন্ন অসাধুচক্রের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করে গুদামজাত করে।
এতে করে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করছে তারা। এতে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকরা এবং কৃষিকাজের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। অনেক কৃষক চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে এসব অভিযোগ করেন। ধান বিক্রি করতে না পারায় তাদের বসতঘরের ভেতরেই ধান মজুত করে রাখতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বসবাসের জায়গার পাশাপাশি ধান রাখায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন মজুত রাখা ধান নষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে তাদের।
কৃষকদের দাবি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ার সুযোগ নিয়েছে একটি অসাধুচক্র। তারা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চাটখিল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের একটি টিম একাধিকবার সংশ্লিষ্ট অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে যান।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাটখিল উপজেলায় ১ হাজার ১৮৫ জন কৃষকের একটি অনলাইন তালিকা রয়েছে। খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ করা কৃষকের সংখ্যা জানতে চাইলে কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ ৪৩২ জন কৃষকের একটি তালিকা দেখান। ওই তালিকা থেকে তথ্য সংগ্রহ ও পরবর্তী যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে দেখা যায়, কৃষি অফিসের ১ হাজার ১৮৫ জন কৃষকের তালিকার সঙ্গে খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ করা ৪৩২ জনের তালিকার মধ্যে মাত্র ২৬৫ জন কৃষকের নামের মিল পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ২৬৫ জনের তালিকায় থাকা কৃষকদের মধ্যেও প্রায় ৬০ জন কৃষকের কাছ থেকে বাস্তবে ধান সংগ্রহ করা হয়নি।
পরবর্তীতে চাটখিল উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিনের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলেন। কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এমতাবস্থায়, কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী সরকারি খাদ্যগুদামের অফিসের তালিকার তথ্যের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য গরমিল রয়েছে। তাহলে সরকারি হিসাবে উল্লেখিত ৯১৬ মেট্রিক টন ধান কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কৃষকরা জানতে চেয়েছেন।
কৃষকদের দাবি, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃষক তালিকা, ধান সংগ্রহের পরিমাণ, কৃষকের নাম, কৃষক কার্ড এবং ধান সরবরাহের যাবতীয় তথ্য প্রকাশ্যে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ বাড়াতে হবে। সরকারকে ন্যূনতম ৫,০০০ মেট্রিক টন করলে কৃষক উপকৃত হবে। এবং নিশ্চিত করে মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।