মাহাবুবুর রহমান শিপন
চলমান মাদক ও জুয়া নির্মূলের লক্ষ্যে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সোমপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় ৮০ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথাও জানানো হয়। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মাদক কারবারিরা নিজেদের ঘরে অগ্নিসংযোগ করে অপপ্রচার চালাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় লোকজন সোমপাড়া পালের বাড়ির পাশে রহমান বেপারী বাড়ির পুকুরসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় এক মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়। তবে ওই ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা চাটখিল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে কয়েকজন মাদক কারবারি পাশের একটি ডোবায় গলা সমান পানিতে লুকিয়ে পড়ে। পরে পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ডোবা থেকে তাদের আটক করে চাটখিল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সুজায়েত উল্লাহ নামে একজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। তার স্ত্রী ও ভাই সুমনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে তারা জানান। তবে এসব মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট থানার নথি থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানের পরদিন ওই পরিবারের একটি ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদকসংক্রান্ত ঘটনার বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ওই অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাকিব নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। বক্তাদের দাবি, মাদকসংক্রান্ত ঘটনার মূল বিষয় আড়াল করতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নূর কবির পাটোয়ারী, চাটখিল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ জামাল এবং সাবেক সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আলম।
এ সময় সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল মেয়র মাসুদুর রহমান, যুবদলের আহ্বায়ক ফজলে আজিম আরজু, সোমপাড়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, যুবদল নেতা রুবেল ও জামাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোরশেদ আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আটক চারজনকে পরবর্তীতে চাটখিল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় এবং মাদকসংক্রান্ত তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তারা।